রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ফুটপাত-রাস্তা দখল করে যুবদলের ওয়ার্ড কার্যালয়

মো. ইমরান হোসেন
মো. ইমরান হোসেন
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ফুটপাত-রাস্তা দখল করে যুবদলের ওয়ার্ড কার্যালয়
প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংযুক্ত ব্যানারে তেজগাঁওয়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে যুবদলের ওয়ার্ড কার্যালয়। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

ফুটপাত ও সড়কের তিন-চার হাত জায়গা দখল করে ওয়ার্ড কার্যালয় গড়ে তুলেছে ঢাকা মহানগর উত্তর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের নেতাকর্মীরা। ১৫৮/এ প্রগতি মোড়, তেজগাঁও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ার বিপরীত পাশের সড়কের ফুটপাতে কার্যালয়টি স্থাপন করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কার্যালয়ের দায়িত্বে আছেন ওই এলাকার যুবদলের কয়েকজন নেতা। ডিএনসিসি এ ব্যাপারে নিশ্চুপ। বিষয়টি দেখছি বলে দায়সারা বক্তব্য দেন ডিএনসিসির এক কমকর্তা।

সরেজমিন রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, যুবদলের ওয়ার্ড কার্যালয়টি একটি টিনশেড ভবন। এই কার্যালয়ের সামনে বড় ব্যানার টাঙানো। ব্যানারের একপাশে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ছবি। অন্য পাশে আছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ কয়েকজন নেতার ছবি। কার্যালয়টির দৈর্ঘ্য ৮ হাত, প্রস্থ ১২ হাত। কার্যালয়টি তখন তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল।

কার্যালয়ের পাশের রিকশা গ্যারেজের একজন বলেন, ‘এখানে যুবদল নেতা কালাম ও এনায়েত ভাইয়ের কথায় সব কিছু চলে। তার সঙ্গে আছে মিজান ভাইসহ অনেকে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘এই অফিসে বসে এনায়েত ভাই, কালাম ভাই, মিজান ভাইসহ অনেকে। আশপাশের ফুটপাত ও রিকশা গাড়ির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে। ভাইরা সন্ধ্যার পরে অফিসে বসে। দিনের বেলা কম আসে। চায়ের দোকানের পেছনে চৌকি বসানো আছে। সেখানে আড্ডা দেয়।’

আবু সত্তর নামের এক মুরব্বি বলেন, ‘এখানকার যুবদলের নেতাকর্মীরা বসে। এখানকার দোকান বা গাড়ির চাঁদা ওরাই নেয়। ওদের কথায় সব চলে।’

সড়ক দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোহের বিষয়ে ২৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমি চারমাস যাবত ঐ অফিসে যাই না। নতুন কমিটি হলে আবার যাবো। এখন অন্যরা দায়িত্বে আছে।’

অফিসটি বৈধ কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। আমাদের সভাপতি রিপন ভাই এখন দায়িত্বে আছে। তার কর্মীরা এখন ওখানে থাকে।’

কালাম নামের এক যুবদল কর্মী বলেন, ‘এখানে আমরা বসি। আরও নেতাকর্মীরা বসে। আমাদের অফিস ফুটপাত ও রাস্তার কিছু অংশে গড়ে তোলা হয়েছে, এটা সত্য। সিটি করপোরেশন এবং দল যদি বলে তাহলে আমরা ভেঙে ফেলবো। তারা না বলা পর্যন্ত আমরা আমাদের কার্যক্রম চালাবো।’

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়টি আমরা দেখছি। আমরা শিগগিরই ব্যবস্থা নেবো।’