নারায়ণগঞ্জে ‘ছিনতাইকারী’ সন্দেহে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জে ‘ছিনতাইকারী’ সন্দেহে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা
নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম মাসদাইরে ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দুই তরুণকে পেটানো হয়

নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় ছিনতাইকারী সন্দেহে এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত তরুণের নাম জিসান (২৫)। তিনি পশ্চিম মাসদাইর এলাকার ইউনুস মিয়ার ছেলে। আহত অনিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে জিসান ও অনিককে তাদের বাসা থেকে ডেকে আনা হয়। পরে তাদের ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের নেতা এবং আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম কাওসার হোসেনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তাদের স্টিলের পাইপ ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন।

একপর্যায়ে জিসান গুরুতর আহত হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত অনিকের অবস্থাও গুরুতর বলে জানা গেছে।

ঘটনার ২৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যুতের খুঁটিতে বাঁধা দুই তরুণকে কয়েকজন ব্যক্তি লাঠি ও ধাতব পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করছেন।

নিহতের বাবা ইউনুস মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলেসহ দুজনকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে খুঁটিতে বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তা শোনা হয়নি। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ঘটনার পর আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের নেতা ও মসজিদের ইমাম কাওসার হোসেনের একটি বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ঘটনাটি জনগণ ঘটিয়েছে এবং এ নিয়ে কোনো মামলা বা হামলার ভয় নেই। একই সঙ্গে তিনি এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

তবে এলাকার কিছু বাসিন্দার দাবি, জিসান ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে আগেও সতর্ক করা হয়েছিল। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, জিসানের বিরুদ্ধে একটি মারামারির মামলা রয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘যে সংগঠনের ব্যানারে এ ঘটনা ঘটেছে, অভিযোগ বা মামলা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

/এমআর/