ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৮ শতাধিক ফিলিস্তিনি শিক্ষক নিহত

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৮ শতাধিক ফিলিস্তিনি শিক্ষক নিহত
কোলাজ: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

বিশ্ব শিক্ষক দিবসের ঠিক আগের দিন শিক্ষা ব্যবস্থার এক ভয়াবহ ও করুণ চিত্র তুলে ধরেছে ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রবিবার (৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৮০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিক্ষককে হত্যা করেছে ইসরায়েল। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি শিক্ষক।

প্রতি বছর ৫ অক্টোবর সারা বিশ্বে শিক্ষক দিবস পালিত হলেও অধিকৃত ফিলিস্তিনের বাস্তবতা একেবারেই আলাদা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জুড়ে শিক্ষাবিদরা পরিকল্পিত লক্ষ্যবস্তু হওয়ার মুখে শিক্ষার অধিকার রক্ষার জন্য অস্তিত্বের এক সত্যিকারের লড়াই লড়ছেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে গাজা ও পশ্চিম তীরের পুরো শিক্ষা খাত ব্যাপক গণহত্যার শিকার হয়েছে। বর্তমানে ১৭০ জনেরও বেশি শিক্ষক ইসরায়েলে আটক রয়েছেন।

১৯৯৫ সালের অসলো II চুক্তির অধীনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে পুরো পশ্চিম তীরকে এ, বি এবং সি- এই তিন অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল। এর মধ্যে এলাকা ‘এ’ ফিলিস্তিনি বেসামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকা ‘বি’ ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রশাসন ও ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ নিয়ন্ত্রণে এবং পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ে গঠিত ‘এরিয়া সি’ সম্পূর্ণভাবে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে।

শিক্ষকদের শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি যোগ হয়েছে তীব্র আর্থিক সংকট। ফিলিস্তিনিদের কর রাজস্ব আটকে দেওয়ায় শিক্ষকরা চরম আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ‘ক্লিয়ারেন্স রেভিনিউ’ নামে পরিচিত এ অর্থ মূলত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পক্ষে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ইসরায়েল কর্তৃক সংগৃহীত কর, যা ১৯৯৪ সালের প্যারিস প্রোটোকলের অধীনে ফিলিস্তিনকে হস্তান্তর করার নিয়ম।

ফিলিস্তিনের মোট সরকারি রাজস্বের প্রায় ৫৬ শতাংশই আসে এ শুল্ক থেকে। তবে ২০১৯ সাল থেকে ইসরায়েল এ রাজস্ব থেকে অর্থ ছাঁটাই শুরু করে এবং একপর্যায়ে অর্থ হস্তান্তর পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়ে এবং সরকারি কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধে চরম বাধার মুখে পড়ে।

এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও মানবাধিকার সংস্থাকে অবিলম্বে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষাকর্মীদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, কারাবন্দি শিক্ষকদের মুক্তি এবং আটকে রাখা রাজস্ব আদায়ের জন্য বিশ্বজুড়ে শিক্ষক সংগঠন ও ইউনিয়নগুলোকে ইসরায়েলের ওপর জোরালো চাপ সৃষ্টির তাগিদ দিয়েছে মন্ত্রণালয়টি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

/এমএকে/