মের্জের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল জার্মানি

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
মের্জের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল জার্মানি
মের্জের পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী

অর্থনীতির মন্দা আর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ এবার তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। সরকারের নীতিতে চরম অসন্তুষ্ট হয়ে পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি রাজ্যের প্লাউয়েন শহরের রাস্তায় নেমে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ।

‘ইউনিটি ফর জার্মানি/প্রজেক্ট এম১মিলিয়ন’ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। তীব্র উত্তেজনার মধ্যে আন্দোলনকারীদের কণ্ঠে আগাম নির্বাচন ও চ্যান্সেলরের পদত্যাগের দাবিই ছিল সবচেয়ে জোরালো।

কড়া পুলিশি পাহারা থাকা সত্ত্বেও ‘মের্জকে যেতেই হবে!’ স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড হাতে শহরজুড়ে মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। পূর্বসূরিদের চেয়েও মের্জের শাসনকালে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আন্দোলনকারীরা চ্যান্সেলরের সামনে ১১ দফা দাবি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি ভিত্তিতে নতুন নির্বাচন আয়োজন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম কমানো, দেশজুড়ে ২৯ ইউরো মূল্যের সাশ্রয়ী গণপরিবহন টিকিট চালু এবং স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন। সেই সঙ্গে কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে মের্জ সরকারের অতিরিক্ত সামরিক বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেন তারা। সম্প্রতি চ্যান্সেলর মের্জ ২০২৯ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩.৫ শতাংশে উন্নীত করার এবং বুন্দেসভেয়ারকে ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীতে পরিণত করার যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, তা জনগণের স্বার্থের চরম পরিপন্থী বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা।

সম্প্রতি ইনফ্রাটেস্ট ডিমাপের জরিপে স্পষ্ট হয়েছে চ্যান্সেলর মের্জের রাজনৈতিক অবস্থান কতটা ভঙ্গুর। জরিপ অনুযায়ী, দেশের ৮৪ শতাংশ মানুষ তার জোট সরকারের ওপর চরম অসন্তুষ্ট। আর মের্জের নিজস্ব জনপ্রিয়তার হার নেমে এসেছে মাত্র ১৩ শতাংশে। এটি ১৯৯৭ সালের পর যেকোনো জার্মান চ্যান্সেলরের জন্য সর্বনিম্ন।

এ জনঅসন্তোষের সুযোগ নিয়ে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে যাচ্ছে ডানপন্থী দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি)। দলটির সহ-নেতা অ্যালিস ভাইডেল সরকারের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংস্কারকে ‘অপ্রতুল ও লোকদেখানো’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন। তার মতে, জার্মানির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রধান চাবিকাঠি ছিল রাশিয়া থেকে আসা সস্তা জ্বালানি। তাই অর্থনীতি সচল করতে হলে রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় জোরদার করাই একমাত্র পথ।

স্যাক্সনি-আনহাল্ট ও মেকলেনবার্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়ার মতো পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে আসন্ন আঞ্চলিক নির্বাচনের আগে এ বিশাল সমাবেশ ক্ষমতাসীন জোটকে বড় ধরনের শঙ্কায় ফেলেছে। এসব রাজ্যে এএফডি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায়, মের্জের নিজ দলের ভেতরেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে চলতি শরতেই ‘চ্যান্সেলর রদবদল’ হতে পারে বলেও জোর গুঞ্জন চলছে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

/এমএকে/