জাতিসংঘে কূটনৈতিক তৎপরতায় আলোচনায় ইরান

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
জাতিসংঘে কূটনৈতিক তৎপরতায় আলোচনায় ইরান
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার ছবি হাতে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল বেশ সক্রিয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। একই সময়ে ওয়াশিংটনের কাছে নতুন একটি প্রস্তাবও দিয়েছে তেহরান। তবে সেই প্রস্তাব দ্রুত কোনো সমঝোতায় রূপ নেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের পর ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকদের নিউইয়র্ক সফর তেহরানের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অবস্থান করেও ইরানের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

নিউইয়র্ক সফরের সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক। বৈঠকের পর আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ইরানের প্রস্তাবের অন্যতম বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর আরোপ করা অর্থনৈতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা যেতে পারে।

তবে ওয়াশিংটন এখনই কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে তাড়াহুড়ো করছে না। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হলে তার জন্য দীর্ঘ আলোচনা, কঠোর পরিশ্রম এবং মধ্যস্থতাকারীদের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা আলোচনাকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক বলেছেন, কিন্তু দ্রুত সমঝোতার ইঙ্গিত দেননি।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নতুন প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং অর্থনৈতিক চাপ কমানোর মতো বিষয় রয়েছে। এসব শর্ত আগের সমঝোতার কাঠামোর সঙ্গেও সম্পর্কিত।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা দ্রুত কোনো চুক্তিতে যেতে আগ্রহী নন। একই সময়ে হরমুজ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন অব্যাহত থাকার কথাও তারা উল্লেখ করেছেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে কূটনৈতিক আলোচনার দরজাও খোলা রেখেছে তেহরান। ফলে একদিকে কঠোর রাজনৈতিক বক্তব্য, অন্যদিকে আলোচনার প্রস্তাব দুই পথেই এগোচ্ছে ইরান।

/এমআর/