যে কারণে আসিয়ানের সদস্য হতে পারলো না বাংলাদেশ

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
যে কারণে আসিয়ানের সদস্য হতে পারলো না বাংলাদেশ
দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের লোগো

ভৌগোলিক অবস্থানগত শর্ত পূরণ করতে না পারায় বাংলাদেশের আসিয়ানে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা এখন নেই বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোটটির মহাসচিব কাও কিম হোর্ন।

রবিবার (২ আগষ্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম জাকার্তা গ্লোব।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউ গিনি দীর্ঘদিন ধরেই এই আঞ্চলিক জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। এমনকি ইন্দোনেশিয়ার সমর্থনও পেয়েছিল পোর্ট মোর্সবি। তবে আসিয়ানের মহাসচিব কাও কিম হোর্ন সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন, পূর্ব তিমুরই হতে যাচ্ছে আসিয়ানের শেষ বা ১১ তম সদস্য রাষ্ট্র। এরপর জোটের পরিধি আর বাড়ানো হবে না।

আসিয়ান মহাসচিব কাও কিম হোর্ন বলেন, জোটের সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া এখানেই শেষ। আসিয়ান সনদের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, কেবল ১১টি দেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাপুয়া নিউ গিনি ও বাংলাদেশ এই ভৌগোলিক সীমানার বাইরে।

তিনি বলেন, আসিয়ান সনদের মূল কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই নতুন সদস্য নেওয়ার নিয়ম নির্ধারিত হয়। সেই সনদের একটি অন্যতম প্রধান শর্ত হলো- আবেদনকারী দেশকে অবশ্যই স্বীকৃত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে অবস্থিত হতে হবে। ভৌগোলিক হিসেবে পাপুয়া নিউ গিনি ওশেনিয়া মহাদেশের অংশ, আর বাংলাদেশ অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ায়। এখন ঢাকা ও পোর্ট মোর্সবির সামনে আসিয়ানে যুক্ত হওয়ার একমাত্র পথ খোলা রয়েছে- যদি আসিয়ান তাদের মূল সনদ সংশোধন করে ভৌগোলিক সীমানার নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করে। তবে সেই সংশোধনীর জন্য জোটের প্রতিটি সদস্য দেশের সম্মতি পাওয়া আবশ্যক।

আসিয়ান মহাসচিব বলেন, যতক্ষণ না সদস্য দেশগুলো সনদ পরিবর্তন করছে এবং নতুন করে ভৌগলিক সংজ্ঞা দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আসিয়ান বলতে কেবল এই ১১টি দেশকেই বোঝাবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সাল থেকেই পাপুয়া নিউ গিনি আসিয়ানে ‘পর্যবেক্ষক’ দেশের মর্যাদা ভোগ করে আসছে। যার ফলে তারা জোটের বিভিন্ন বৈঠকে উপস্থিত থাকার সুযোগ পায়। তবে পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদের ক্ষেত্রে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আসিয়ানের ভৌগোলিক সীমানা বিষয়ক নিয়মাবলী।

/এসবি/