অস্ত্র হাতে নিয়েছিলাম নিজের সুরক্ষার স্বার্থেই: ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অস্ত্র হাতে নিয়েছিলাম নিজের সুরক্ষার স্বার্থেই: ইশরাক
জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের পর বিতর্কিত ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ ও তার অস্ত্র হাতে নেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যম ব্যাখা করেছেন।

তিনি বলেছেন, আমাদের ওপর হামলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আমার নিজের ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য আমার কাছে থাকা লাইসেন্সকৃত বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রটি আমি হাতে ধারণ করি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত পূূর্ব নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সেদিনের ঘটনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, গোপনীয়তা রক্ষার কারণে এই অভিযান চালানোর বিষয়টা শুধু আমার কাছেই সীমিত রাখি। প্রয়োজনীয় যারা নেতাকর্মী এবং স্থানীয় ওসি এবং পুলিশ সদস্যদের শেষ মুহূর্তে বলতাম। কারণ, আমরা জেনেছি যেকোনো ধরনের তথ্য দিলে সেটা তাৎক্ষণিকভাবে ফাঁস হয়ে যায়, তারা (মাদক কারবারীরা) পালিয়ে যায়।

ইশরাক হোসেন বলেন, সেদিন আমরা থানাকে জানিয়েছিলাম যে আমরা যাব। কোন সময় তারা আসবে সেটিও জানিয়ে দেব– এরকম একটা পরিকল্পনা করে আমি যাই। আমাদের স্থানীয় ভলান্টিয়ারদের বিভিন্ন জায়গায় সেট করা হয়। আমরা যখন প্রবেশ করি তখন প্রায় ২৫-৩০ জন লোক সেখান থেকে বের হয়ে আসে। দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করে এবং একদল লোক আমাদের গাড়ির দিকে আসতে থাকে।

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার নিজস্ব একটি লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে শুধু আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য। সেটি আমার কোমরে সবসময় থাকে। আমার সঙ্গে সেদিন সরকারের দেওয়া একজন সিকিউরিটিও ছিলেন। এ অবস্থায় আমরা গাড়ি থেকে নামি। আমি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি আমার হাতে ধারণ করি। যদি কোনো ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয় আমি যেন নিজেকে রক্ষা করতে পারি। কারণ, বিভিন্নভাবে তারা (মাদক কারবারীরা) লুকিয়ে পাইপগান দিয়ে গুলি করে।

তিনি আরও বলেন, আরেকটি মজার বিষয়, পুলিশ বাহিনীকে বহুবার বলার পরেও তারা সেখানে যেতে চায় না। কারণ, ছাদের থেকে গুলি করা হয়। এর আগে তাদের একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন। এসব কথা মাথায় রেখে আমরা ন্যূনতম প্রটেকশন নিয়ে সেই অভিযানে যাই। আমি কেবল এতটুকুই নিশ্চিত করেছি যে তাদের হাতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র আছে কিনা। তারা নিরস্ত্র নিশ্চিত হওয়ার পরে আমার ব্যক্তিগত অস্ত্রটি আমি পকেটে ঢুকিয়ে ফেলি। এর পর কিন্তু প্রায় ৪৫ মিনিট আমরা সেখান থেকেও পায়ে হেঁটে সামনের দিকে অগ্রসর হই। গেন্ডারিয়া থানাকেও জানিয়ে দেওয়া হয়, তারাও গাড়ি নিয়ে চলে আসে।

/এফসি/