টয়লেট্রিজের বাজারেও লাগামহীন দাম! বাড়ছে সাবান-শ্যাম্পুর খরচ
টয়লেট্রিজের বাজারেও লাগামহীন দাম! বাড়ছে সাবান-শ্যাম্পুর খরচ
টয়লেট্রিজের বাজারেও লাগামহীন দাম! বাড়ছে সাবান-শ্যাম্পুর খরচ


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে দারিদ্র্য হ্রাসের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। করোনা মহামারীর পর থেকে দারিদ্র্যের চাপ বাড়তে থাকায় গত চার বছরে নতুন করে ৮০ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ-নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী চাপে থাকলেও সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে.....

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমতে পারে, অন্যদিকে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবর ২০২৬-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে পড়েছে। এতে বাড়তি খরচের চাপে পড়েছে স্বল্প ও মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবারগুলো।
টয়লেট্রিজের বাজারেও লাগামহীন দাম! বাড়ছে সাবান-শ্যাম্পুর খরচ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ শতাংশে নামিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। জুলাইয়ে দেওয়া পূর্বাভাসে সংস্থাটি এই প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছিল।

গত ২০ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই কেরোসিন, ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দাম একলাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এতে মানুষের জীবনের সবক্ষেত্রে খরচ অনেক বেড়ে যাবে।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ার এক দিনের মধ্যেই পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে। যশোরের বারীনগর পাইকারি সবজি মোকাম থেকে ঢাকায় পাঁচ টন সবজি পাঠাতে ট্রাকভাড়া বেড়েছে এক হাজার টাকা।

কয়েক মাসের উচ্চ মূল্যস্ফীতির পর দেশে মূল্যচাপ কমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। টানা তৃতীয় মাসে কমে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে। যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মূল্যস্ফীতির হার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই মূল্যস্ফীতি কমলো। জুলাইয়ের চেয়ে আগস্টে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ হয়েছে। জুলাইয়ে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, নতুন বেতন কাঠামোর কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষের আয় বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়তে পারে। তবে নতুন পে-স্কেলে সবার বেতন দ্বিগুণ হবে, বিষয়টি এমন নয়।

উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ হিসেবে লজিস্টিক ব্যয়ের উচ্চহার, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারব্যবস্থার বিভিন্ন অসঙ্গতিকে চিহ্নিত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

আইএমএফের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখনও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতিজনিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় শিল্পের জন্য নীতি সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

অর্থনীতির বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট দিতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। এই বাজেট শুধু নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক পরিকল্পনাই নয়, নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরও প্রথম বড় পরীক্ষা।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সরকার আসায় বিগত সরকারের আমলে করা ঋণ সমঝোতা নিয়ে আর সামনে এগোনোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

আবারও ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গেল মূল্যস্ফীতি। সর্বশেষ এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ফলে জনসাধারণের ওপর চাপ আরেক দফা বাড়ল।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস। আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে অনেক অব্যবস্থাপনা ও অরাজকতা লাভ করেছি।’

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে রপ্তানি আয় কমে গেছে। বেড়েছে আমদানি ব্যয়। যার ফলে বহির্বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে রাজস্ব ও আর্থিক খাতে সংস্কার থমকে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্যে তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতির পারদ কিছুটা নিম্নমুখী। তবে সাধারণ মানুষের পকেটে তার সুফল পৌঁছাচ্ছে না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ শতাংশের ওপরে।

বাজারে মাছ, সবজি ও ফলের দাম অনেক বেড়েছে। এ কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ফলে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।

বারবার মূল্যস্ফীতি কমানোর আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের শেষ সময়ে এসে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়েছে। টানা তিন মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী এই প্রবণতায় নিম্নআয়ের ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
