বাংলাদেশিদের নেপাল ভ্রমণে সতর্কতা

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
বাংলাদেশিদের নেপাল ভ্রমণে সতর্কতা
নেপালে বন্যা

ভারত ও নেপালে টানা ভারী বৃষ্টি আর ঝড়ের কারণে বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু ভারতের উত্তর প্রদেশেই মারা গেছেন ৫৬ জন। আর নেপালে মৃতের সংখ্যা ১৪। দেশটিতে এখনো অন্তত ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এমতাবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাসমূহ বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে নেপালস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, সব বাংলাদেশি পর্যটক ও ট্রেকারদের নেপালে চলমান ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভ্রমণে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানাচ্ছে কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাস। যতক্ষণ আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হচ্ছে, ততক্ষণ পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্রমণে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষ করে পিসাং, চামে, মানাং ও আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধস, এবং তুষারপাতের ফলে অনেক স্থানে সড়ক যোগাযোগে বিঘ্নিত হয়েছে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

নেপাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে মানাংয়ের বিভিন্ন এলাকায় ট্রেকিং স্থগিত করেছে। এর মধ্যে তিলিচো লেক, থরং লা পাস, আইস লেক, কাং লা এবং ভীমথাং উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ এবং নিকটবর্তী ট্রেকিং গন্তব্যে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য পোখারা ও আশপাশের এলাকা ভ্রমণেও সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। মুস্তাং, জমসম এবং অন্যান্য পার্বত্য এলাকার ভ্রমণের পূর্বে গান্দাকি প্রদেশের বিভিন্ন সড়ক যোগাযোগ সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত থাকা প্রয়োজন, কেননা এসব সড়ক ব্যবস্থা তাৎক্ষণিক বিঘ্নিত হতে পারে।

এ কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের অন্নপূর্ণা, মানাং, মুস্তাং ও মানাসলু অঞ্চলসহ বিভিন্ন পার্বত্য ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় ট্রেকিং, পর্বতারোহণ এবং ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সব তথ্য যাচাই করতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে নেপাল সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যেসব বাংলাদেশি নাগরিক ইতোমধ্যে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় ভ্রমণ করছেন, তাদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে নদীর তীর ও ভূমিধসের আশংকাযুক্ত এলাকা এড়িয়ে চলা, ভ্রমণের আগে সড়ক ও আবহাওয়া পরিস্থিতি যাচাই করা এবং ট্রাভেল অপারেটর ও দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

দূতাবাস নেপালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাসহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করবে বলেও জানানো হয়েছে।

/জেএইচ/